Friday, January 2, 2026
Homeট্রেন্ডিংযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলে পৌঁছেছেন শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলে পৌঁছেছেন শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে

Advertisement

ভূমিকা: মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলে পৌঁছেছেন এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফরে। তিনি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক শান্তি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। এই সফরকে বিশ্বব্যাপী উত্তেজনার মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের সফর শুধু ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক নয়, বরং হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করবেন তিনি, যা সফরটিকে মানবিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।

Advertisement

সম্মেলনের লক্ষ্য: গাজার মানবিক সংকটের সমাধান

বর্তমানে গাজার পরিস্থিতি প্রতিদিনই অবনতির দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিরোধী পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা।

Advertisement

সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিশরের শারম আল শেখ শহরে, যেখানে বিশ্বনেতা ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

Advertisement

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করতে চান, যাতে একটি টেকসই শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া যায়।”

ইসরায়েলে আগমন: উষ্ণ অভ্যর্থনা

সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ট্রাম্প তেল আভিভের বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ও ফার্স্ট লেডি মিখাল হারজগ তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুও উপস্থিত ছিলেন।

লাল গালিচায় অভ্যর্থনার সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং উভয় দেশের পতাকা উড়ানো হয়।
ট্রাম্প বলেন,
“আমি সংঘাত বাড়াতে আসিনি, শান্তির কথা বলতে এসেছি। আমার লক্ষ্য হলো মানুষকে কাছাকাছি আনা, দূরে ঠেলে দেওয়া নয়।”

কেনেসেটে ভাষণ

ট্রাম্প ইসরায়েলের সংসদ কেনেসেটে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি গাজায় মানবিক সহায়তার প্রয়োজন, শান্তির রোডম্যাপ এবং ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান বিষয়ে জোর দেবেন।
তার এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচারিত হবে, যা অঞ্চলের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

Also read:মাছ ও বাদাম কি আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে

জিম্মি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ

সফরের একটি আবেগঘন অংশ হবে হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎ। তিনি তাদের মুক্তির দাবি জোরালো করবেন এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আহ্বান জানাবেন।
ট্রাম্প বলেন, “প্রতিটি পরিবার তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে পুনর্মিলনের অধিকার রাখে। আমরা তাদের কষ্ট অনুভব করি।”

পরবর্তী ধাপ: শারম আল শেখ শান্তি সম্মেলন

ইসরায়েল সফর শেষে ট্রাম্প শারম আল শেখে শান্তি সম্মেলনে যোগ দেবেন। সম্মেলনটি স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় (GMT+2) শুরু হবে।
এতে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মিশর, জর্ডান ও কাতারের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
মূল আলোচ্য বিষয়গুলো হবে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সাহায্য ও যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

দেশ/সংস্থাপ্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় ইউনিয়ন“শান্তির জন্য এক আলোকরশ্মি।”
ইরান“এটি কেবল রাজনৈতিক প্রদর্শনী।”
জাতিসংঘযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মানবিক সাহায্য সমন্বয়ের অঙ্গীকার।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে নতুন পরিবর্তন

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
গ্লোবাল রিলেশন বিশেষজ্ঞ ড. ফাহদ কুরেশি বলেন,
“এটি এক সতর্ক কূটনৈতিক পদক্ষেপ। ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যেও শান্তির নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে চাইছেন।”

বিশ্লেষণ

এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে সম্ভাব্য মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পুনঃসম্পৃক্তি একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত, কিন্তু বাস্তব শান্তি অর্জন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

জনমত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ কেউ ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ মন্তব্য করেছেন—
“এই সফর বাস্তব পদক্ষেপের চেয়ে বেশি এক ফটোশুট।”

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

প্রশ্নউত্তর
ট্রাম্পের সফর কি স্থায়ী শান্তি আনতে পারবেএটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ তবে স্থায়ী শান্তি নির্ভর করবে টেকসই আলোচনা ও সকল পক্ষের প্রতিশ্রুতির উপর
কোন কোন দেশ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেমিশর জর্ডান কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের প্রতিনিধি সহ আরও কয়েকটি দেশ

উপসংহার

ইসরায়েলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগমন ও গাজা শান্তি সম্মেলনে তার অংশগ্রহণ বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। এটি দেখায় যে বৃহৎ শক্তিগুলো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, যদিও প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো কূটনীতিকে স্থায়ী ফলাফলে রূপ দেওয়া।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত