Advertisement
বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায় একটি ভয়াবহ পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে একজন স্কুল শিক্ষিকার ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা চরম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়ে শিক্ষিকার কোল থেকে তার তিন বছরের সন্তানকে কেড়ে নিয়ে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের পূর্ব মথুরাপাড়া এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বর্তমানে হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন এবং তার শিশু সন্তানটি চরম মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
অপহরণ চেষ্টা ও খুনের পরিকল্পনা
প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে যে তসলিমা আক্তার যখন স্কুলে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন তখন তার পরিবারেরই কয়েকজন সদস্য অতর্কিতে স্কুলের অফিসে ঢুকে পড়ে। তারা তাকে স্কুল ভবন থেকে টেনেহিঁচড়ে মাঠে নিয়ে আসে এবং সেখানে লাঠি ও কুঠার দিয়ে নির্মমভাবে মারধর শুরু করে।
Advertisement
নিষ্পাপ শিশুর ওপর নির্যাতন
Advertisement
হামলার সময় তসলিমা যখন তার সন্তানকে রক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন তখন আক্রমণকারীরা তার তিন বছরের ছেলে মুবিনকে কেড়ে নেয়। তারা শিশুটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে পাশের একটি গভীর পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেয়।
Advertisement
উদ্ধার অভিযান সৌভাগ্যক্রমে প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং পুকুর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করায় সে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যায়।
বর্তমান অবস্থা শিশুটি শারীরিক ভাবে বেঁচে গেলেও সে এখনও চরম আতঙ্কে রয়েছে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।
আশঙ্কাজনক অবস্থা ও পরিবারের আকুতি
তসলিমা আক্তারকে দ্রুত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে তার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।
তার স্বামী মোহাম্মদ মাসুম পারভেজ যিনি পূর্ব মথুরাপাড়া আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তিনি শোকে ভেঙে পড়েছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি বিলাপ করে বলেন যে তারা আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। তারা তাকে স্কুল থেকে টেনে বের করেছে এবং আমার তিন বছরের ছেলেকে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। প্রতিবেশীরা সময়মতো না এলে আজ আমি দুজনেই হারিয়ে ফেলতাম। এটি কেবল একটি হামলা ছিল না বরং এটি ছিল একটি পরিকল্পিত খুনের চেষ্টা।
জনরোষ এবং প্রশাসনের ভূমিকা
এই ঘটনা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সমাজের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ নারী শিক্ষিকার ওপর কর্মস্থলে এমন হামলা স্কুলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং শিক্ষক সংগঠনগুলো অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা
| বিষয় | বিবরণ |
| হামলার কারণ | প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যক্তিগত বা সম্পত্তি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ |
| পুলিশের পদক্ষেপ | ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি |
| আসামিদের অবস্থা | পুলিশ জানিয়েছে যে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে এবং তাদের ধরতে অভিযান চলছে |
Also read:রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে টমেটো চাষিদের হাহাকার নিম্নমানের বীজ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় মাথায় হাত
সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর
১ শিশুটি কি এখন নিরাপদ?
শিশুটি পুকুর থেকে উদ্ধার পাওয়ার পর শারীরিকভাবে নিরাপদ থাকলেও ঘটনার আকস্মিকতায় সে প্রচণ্ড মানসিক আঘাত বা ট্রমার শিকার হয়েছে।
২ হামলার নেপথ্যে কী কারণ ছিল?
হামলাটি একটি দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক কলহের জের ধরে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে তবে পুলিশ আসল উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে।
৩ অভিযুক্তদের কি আটক করা হয়েছে?
এখন পর্যন্ত আসামিরা পলাতক রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা আসামিদের ধরার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
সারসংক্ষেপ এবং আপনার মতামত
কিশোরগঞ্জের এই ঘটনাটি একটি দুঃখজনক উদাহরণ যে কীভাবে পারিবারিক বিরোধ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। একজন মাকে তার কর্মস্থলে আক্রমণ করা এবং একটি ছোট শিশুকে বিপদে ফেলা সম্পূর্ণ অমানবিক। ভুক্তভোগীর পরিবার এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
পারিবারিক বিরোধে এই ধরনের সহিংসতা বন্ধ করতে আইনের কী ভূমিকা নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? আপনি কি মনে করেন আমাদের স্কুলগুলো শিক্ষক ও কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা রাখে? কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বজায় রাখতে আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
সতর্কবার্তা
এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্য ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। সংবাদের মতামত বা বিশ্লেষণ লেখকের ব্যক্তিগত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সাথে সাথে তথ্যের পরিবর্তন হতে পারে তাই যাচাইয়ের জন্য পাঠকদের অফিশিয়াল উৎসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষতির জন্য দায় স্বীকার করা হবে না।
