Friday, January 2, 2026
Homeখবরঅর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা বাড়াতে পারে

অর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা বাড়াতে পারে

Advertisement

ভূমিকা

বাংলাদেশ ধীরে ধীরে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করছেন সময় নিয়ে নতুন করে ভাবতে। সম্প্রতি ঢাকায় এক সেমিনারে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলেন, বাংলাদেশকে উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ করা উচিত। এটি পরিসংখ্যান বদলে নয়, বরং খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতার মতো সামষ্টিক দুর্বলতাকে সামনে এনে করা দরকার।

তাদের বার্তা স্পষ্ট: অর্থনীতি চাপের মধ্যে থাকায় কিছুটা সময় চাওয়া হলে উত্তরণ আরও মসৃণ হতে পারে।

Advertisement

বেসরকারি খাতকে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এ আয়োজিত “এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। তিনি ব্যবসায়ীদের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে বলেন:

Advertisement

“বেসরকারি খাতকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তরণ বিলম্বিত করার পক্ষে লবিং শুরু করা উচিত।”

Advertisement

তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্ভবত আগামী নির্বাচিত সরকার নেবে, তবে জাতিসংঘ কেবল সামষ্টিক দুর্বলতার যুক্তি সহজে গ্রহণ করবে না। তাই দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে সমন্বিত লবিং করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন

১. খাদ্য ও কৃষিতে নির্ভরশীলতা
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ড. মশরুর রেয়াজ বলেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা এখনো আমদানিনির্ভর, কৃষিও অনেকটাই আমদানিকৃত সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শুধু তথ্য বদলালেই হবে না, খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বড় সমস্যাগুলোতে মনোযোগ দিতে হবে।”

২. আমদানিনির্ভর জ্বালানি সংকট
২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ জ্বালানিতে সমস্যার মুখোমুখি। মূল কারণ আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, সমাধান না হলে শিগগিরই ‘এনার্জি ফেমিন’ বা জ্বালানি দুর্ভিক্ষ তৈরি হতে পারে, যা শিল্প ও রপ্তানিতে বড় প্রভাব ফেলবে।

৩. বৈশ্বিক সূচক ও রপ্তানি প্রতিযোগিতা
বাংলাদেশ গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস ইনডেক্সে ১০৫তম, যেখানে প্রতিযোগী দেশগুলো ৬০-এর নিচে অবস্থান করছে।
লজিস্টিক্স পারফরম্যান্স ইনডেক্স ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ইনডেক্সও অবকাঠামো ও নীতিনির্ধারণী সংস্কারের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

৪. স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় ঘাটতি
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখনো অপ্রতুল। মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো সংকটে জনগণ বড় ঝুঁকিতে পড়ে

তথ্য গোপনের অভিযোগ

বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার প্রতিবছর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় বাড়িয়ে দেখাত।

তিনি বলেন, “অর্থনীতি এখন লাইফ সাপোর্টে। এ কারণেই সময় বাড়ানোর আবেদন করাই যৌক্তিক।”
তার মতে, নতুন সরকারের সামনে সুযোগ এসেছে বাস্তবতাকে তুলে ধরে সময় বাড়ানোর পক্ষে শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপনের।

কেন ব্যবসার জন্য বিলম্ব গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশ যদি এখনই এলডিসি থেকে উত্তীর্ণ হয়, তবে কয়েকটি ঝুঁকিতে পড়তে পারে:

  • শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানো: বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে, যা পোশাকসহ বড় শিল্পখাতকে টিকিয়ে রেখেছে।
  • ঋণ ব্যয় বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক ঋণ আরও ব্যয়বহুল হবে, ফলে অর্থায়ন কঠিন হবে।
  • প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি: এলডিসি সুবিধা ছাড়া রপ্তানিকারকদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কষ্ট হবে।

অতএব, সময় বাড়ানো হলে ব্যবসাগুলো অভিযোজিত হতে ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রস্তুতি নিতে পারবে।

Also Read:রিজভীর সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হুমকি দিচ্ছে ‘বিপজ্জনক শক্তি’

সরকারের স্থিতিশীলতা আনার প্রচেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে:

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দ্রুত হ্রাস রোধ করেছে (যা আগে মাসে ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমছিল)।
  • মুদ্রা ও জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করার নীতি বিকল্প খুঁজছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব উদ্যোগ যথেষ্ট নয় দ্রুত উত্তরণের ঝুঁকি ঠেকাতে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: এলডিসি থেকে উত্তরণ মানে কী?
এটি মানে বাংলাদেশ আর “স্বল্পোন্নত দেশ” নয়, বরং “উন্নয়নশীল দেশ”। এর ফলে বাণিজ্য সুবিধা ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

প্রশ্ন ২: বিশেষজ্ঞরা কেন সময় বাড়ানোর পক্ষে?
খাদ্যনিরাপত্তা, জ্বালানি নির্ভরতা, প্রতিযোগিতা ঘাটতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো সামষ্টিক সমস্যার কারণে।

প্রশ্ন ৩: লবিংয়ের দায়িত্ব কার?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারি খাত—বিশেষ করে রপ্তানিকারকরা—আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে লবিং করবে।

প্রশ্ন ৪: কত সময় বাড়ানো সম্ভব?
সাধারণত ২ থেকে ৩ বছরের জন্য প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর আবেদন করা যায়, তবে তা জাতিসংঘের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।

আহ্বান

আপনার কি মনে হয় বাংলাদেশকে আরও কিছু সময় চাওয়া উচিত, এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে? মন্তব্যে আপনার মতামত জানান।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত