Advertisement
ভূমিকা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটি-১) ঢাকার ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ের ঘটনায় সাবেক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান ও আরও চারজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন করেছে। রামপুরা শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড শুধু জনমনে গভীর আঘাতই হানেনি, বরং পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
রামপুরার দিন: পটভূমি
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই স্থানীয় একটি হোটেলের কর্মচারী আমির হোসেন তার খালার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কে পুলিশ ও বিজিবির অবস্থান দেখে আতঙ্কিত হয়ে তিনি একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনে উঠে যান।
Advertisement
সাক্ষীদের বর্ণনা অনুযায়ী, এক পুলিশ সদস্য তাকে ছয় রাউন্ড গুলি করলে তিনি তৃতীয় তলা থেকে পড়ে যান। প্রথমে বনশ্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
Advertisement
সেদিন একই ঘটনায় পুলিশ আরও দুইজনকে গুলি করে হত্যা করে—নাদিম ও মায়া ইসলাম। মায়ার ছয় বছরের নাতি, বাশিত খান মুসা গুরুতর আহত হয় এবং চিকিৎসা সত্ত্বেও সে চিরদিনের জন্য বাকশক্তি হারায়।
Advertisement
অভিযোগ ও আদালতের কার্যক্রম
- তারিখ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ: বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম মোর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেল
- অভিযোগকারী দল: গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহমেদ ও সামেম রেজা তালাত
অভিযুক্তরা:
- হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার
- চঞ্চল চন্দ্র সরকার, সাবেক এএসআই
- রশিদ, সাবেক এডিসি (মতিঝিল বিভাগ)
- আরও দুইজন কর্মকর্তা (পলাতক)
গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি:
- আদালতে চঞ্চল সরকার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, তবে তার জামিন নামঞ্জুর করা হয়।
- ট্রাইব্যুনাল মামলার বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
- চারজন পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
গ্রেপ্তার ও তদন্ত
২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি আইসিটি বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর আহসান জোহা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাবেক এএসআই চঞ্চল সরকারকে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করেন।
তদন্ত শেষে ৩১ জুলাই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রধান প্রসিকিউটরের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়, যার ভিত্তিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ভুক্তভোগীদের কাহিনি
- আমির হোসেন: গুরুতর আহত, দীর্ঘ চিকিৎসার পরও পুরোপুরি সুস্থ হননি।
- নাদিম: ঘটনাস্থলেই নিহত।
- মায়া ইসলাম: নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত।
- বাশিত খান মুসা: গুরুতর আহত, আজীবনের জন্য বাকশক্তি হারান।
এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু গুলিবর্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি একটি পুরো সম্প্রদায়কে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
Also read:প্রফেসর ইউনুস: জুলাই জাদুঘর হতে হবে অবিচার ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অনুপ্রেরণা
আইন ও সমাজে গুরুত্ব
এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—
- প্রথমবারের মতো উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে।
- এটি পুলিশ সংস্কার ও ন্যায়বিচারের কাঠামো পরিবর্তনের পরীক্ষাকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- দীর্ঘদিনের বেদনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
প্রশ্নোত্তর
Q1: কার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে?
A: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে।
Q2: ঘটনা কখন ঘটেছিল?
A: ১৯ জুলাই ২০২৪, রামপুরা বনশ্রী এলাকায়।
Q3: ভুক্তভোগীরা কারা ছিলেন?
A: আমির হোসেন (আহত), নাদিম (নিহত), মায়া ইসলাম (নিহত) এবং বাশিত খান মুসা (আহত ও বাকশক্তি হারানো)।
Q4: তদন্তের নেতৃত্ব কে দিয়েছেন?
A: বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর আহসান জোহা।
উপসংহার
রামপুরা শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড মামলা প্রমাণ করেছে—সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠানও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায় এড়াতে পারে না। এই বিচার ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শক্ত বার্তা যে, আইন সবার জন্য সমান।
