Advertisement
“সিগারেটের দাম বাড়ছে, অথচ বিড়ির দাম কমছে কেন?”—নতুন জিএসটি (GST) পরিবর্তনের পর থেকে সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা এই প্রশ্নটি বারবার করছেন।
অনেকেই এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন। অন্যদিকে, সরকারের ব্যাখ্যায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ উঠে এসেছে। আজকের প্রতিবেদনে আলোচনা করব কেন এই পরিবর্তন আনা হলো, কারা এর সুফল পাবে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে।
Advertisement
নতুন জিএসটি-তে সিগারেট ও বিড়ি নিয়ে কী বলা হয়েছে?
- সিগারেটে বেশি কর: মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সরকার সিগারেটের দাম বাড়াচ্ছে।
- বিড়িতে কম কর: অন্যদিকে, বিড়ি শিল্প ও দরিদ্র মানুষদের সহায়তা করতে কর কমানো হচ্ছে।
মূল পার্থক্য হলো—শহর ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি মূলত সিগারেট খায়, আর গ্রামীণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেশি বিড়ি সেবন করে।
Advertisement
বিড়ির দাম কমলো কেন? সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণ
১. বিশাল কর্মসংস্থান খাত
সরকারের হিসাবে—
Advertisement
- ভারতে প্রায় ৪৯.৮২ লাখ বিড়ি শ্রমিক কাজ করছেন।
- তাদের মধ্যে অনেকে গৃহিণী, যারা সংসারের খরচ চালাতে ঘরে বসে বিড়ি তৈরি করেন।
২. স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের সুরক্ষা
ব্রিটিশ সেফটি কাউন্সিলের ২০২৩ সালের রিপোর্টে বলা হয়—
- ২০১০–১১ সালে একজন বিড়ি শ্রমিক সাধারণ শ্রমিকের আয়-এর মাত্র ১৭% উপার্জন করতেন।
- পশ্চিমবঙ্গে একজন শ্রমিক প্রতি ১,০০০ বিড়ি বানানোর জন্য মাত্র ₹১৫০ পান।
- দিনে ৪০০–৭০০টি বিড়ি বানালেও তাদের আয় খুবই কম।
৩. ক্ষুদ্র শিল্প রক্ষা করা
- ভারতে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে বিড়ি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
- বিড়ি বানাতে লাগে তেন্দু পাতা, যা একটি কৃষিজ পণ্য।
- কর বাড়ালে কৃষক ও শ্রমিক উভয়ের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ত।
Also Read:বাংলাদেশে সোনার দামের উল্লম্ফন: বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, রাজনৈতিক কারণও এখানে কাজ করেছে। যেমন—
- বিহারের মতো রাজ্যে অনেক ভোটার বিড়ি শ্রমিক।
- গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মানুষদের সহায়তা করা রাজনৈতিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা লাভবান হবে?
- বিড়ি শ্রমিকরা: তাদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়বে।
- কৃষকরা: তেন্দু পাতার চাহিদা বাড়বে।
- নিম্নআয়ের মানুষ: তারা সস্তায় তামাকজাত পণ্য কিনতে পারবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন—
- দাম কমলেও বিড়ি সিগারেটের মতোই ক্ষতিকর।
- ফুসফুস, গলা ও মুখের ক্যান্সারসহ নানা গুরুতর রোগের ঝুঁকি থেকে যায়।
চূড়ান্ত ভাবনা
সিগারেট ও বিড়ির ওপর সরকারের নতুন জিএসটি সিদ্ধান্ত অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সিগারেটের দাম বাড়ানো হচ্ছে স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য, আর বিড়ির দাম কমানো হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা রক্ষায় সহায়তা করতে।
তবে ধূমপান যাই হোক না কেন, সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সম্পূর্ণভাবে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: বিড়ির দাম কতটা কমবে?
উত্তর: সঠিক হারে কিছু জানানো হয়নি, তবে দোকানে দাম কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ কর কমানো হয়েছে।
প্রশ্ন: বিড়ি শিল্পে কতজন নারী কাজ করেন?
উত্তর: সাধারণত ৬০–৭০% শ্রমিক নারী, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়।
প্রশ্ন: কর কমালে কি বিড়ি খাওয়ার পরিমাণ বাড়বে?
উত্তর: সামান্য বাড়তে পারে, তবে মূল লক্ষ্য হলো শ্রমিকদের কর্মসংস্থান রক্ষা করা।
